ব্যাঙ্গালোরে প্রায় প্রচুর বাঙালি
থাকার সুবাদে আজকাল প্রায়ই এখনকার মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে বাংলা সিনেমা দেখানো হয়।কিছুদিন আগে সেরকমই একটি
সিনেমা ‘জাতিস্মর’ দেখতে যাওয়া হয়েছিল। আর সেই সিনেমা দেখতে গিয়ে একটি অদ্ভুত realization হল। না সিনেমার মূল
গল্পের সঙ্গে এর কোনই সম্পর্ক নেই। সিনেমায় RJ স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় র
মা মমতা শঙ্কর, তিনি মধ্যবয়সিনী, স্বামীকে হরিয়েছেন, কিন্তু সিনেমায় she has been designated as “Bindaas বিধবা”। আধুনিক সংস্কৃতি মনষ্ক
মানুষ বলেই তাকে সিনেমায় চিত্রিত করা হয়। কিন্তু যখন তিনি মেয়েকে
বলেন জলসা চ্যানেলটা ধরতে, to watch “তোমায় আমায় মিলে” তখন কেমন যেন একটা কানে লাগে। যতদূর জানা আছে, তাতে ওই সিরিয়ালটির বিষয়বস্তু আর যাই হোক না কেন, কোনও মতেই মমতা শঙ্করের
সিনেমার চরিত্রটির সঙ্গে খাপ খায় না। তবুও তিনি ওই সিরিয়ালটি
নিয়মিত দ্যাখেন।
যতদূর
জানা আছে, বিভিন্ন বাংলা চ্যানেলে যে
সমস্ত সেরিয়ালগুলো বিশেষ জনপ্রিয়, তাদের বেশীরভাগেরই বিষয়বস্তু মোটামুটি একইরকম।শাশুড়ি-বউ র
তিক্ত-মধুর সমাপরক, গ্রামের সরল সিধে মেয়ের শহুরে বড়লোকএর ছেলের সঙ্গে প্রেম এবং তার পারে হাজার
একটা complications, একটি ছেলের গণ্ডা দশেক বউ....কারো বা হয়তো মা
হারিয়ে গাছে. আর গত বিশ বছর ধরে সে তার মাকে খুঁজে চলেছে..।
আমার একজন কাকিমা আছেন, যিনি ওই সিরিয়াল চলাকালীন বাড়িতে লোকজন আসা একেবারেই পছন্দ করেননা। এমনকি বাড়ির ফোনটা পর্যন্ত
নামিয়ে রাখেন। আমার মাকে যতদূর চিনি, মা কোনও দিনই সিরিয়ালের
পোকা ছিলেন না। কিন্তু এখন যখন রোজ সন্ধেবেলা
বা রাতের দিকে বাড়িতে মাকে ফোনে করি.....তখন বেশ বুঝতে পারি আমার মাও এইসব
সেরিয়ালগুলোর কাছে আত্মসমর্পণ করে বসে আছে। ব্যাপারটা বেশ অদ্ভুত লাগে...
তাই গতবার কলকাতায়
গিয়ে মাকে জিজ্ঞাসাই করে ফেললাম...কী ব্যাপার বলত?...তুমি আবার এতো সিরিয়াল
এর ভক্ত হলে কবে থেকে?....মা র সরল উত্তর: কী করব সরদিন বাড়িতে একা একা?তাই TVটা চালিয়ে রাখি..।
মনটা খারাপ হয়ে যায়।
আজ কর্মসূত্রে আমার মায়ের মেয়ে বাইরে থাকে। নিজেদের জীবন নিয়ে, নিজেদের জগত্ নিয়ে আমরা ভিশন ব্যস্ত। দিনের শেষে তাই ফোনে আথবা স্কাইপ এ দুটো কথা। কিন্তু আমার মা যে ভীষণ একা। সারাদিন ওই কয়েকটা মিনিট কথা
বলার অপেক্ষা করতে করতে কখন যেন আমার মা নিজের অজান্তেই ওই তথাকথিত বস্তাপচা ফ্যামিলি
ড্রামার স্বরণাপন্ন হয়ে পরেছে।